ঘরের শত্রু শিক্ষামন্ত্রী-বিজেপি কে হারাবেন?

Share

“কথায় আছে ঘরের শত্রু বিভীষণ ” কিন্তু বর্তমান ত্রিপুরার বিজেপি জোট সরকারের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট যদি আলোচনা করা যায় তাহলে , আজকের দিনে বিজেপির ঘরের শত্রুর সংখ্যা গুণে শেষ করা যাবে না, কিন্তু সেই ঘরের শত্রুর মধ্যে বর্তমানে অন্যতম ভূমিকায় মাননীয় রতন লাল নাথ বলে অনুভব হচ্ছে, যিনি বিজেপি জোট সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য একাধারে কাজ করে যাচ্ছেন বলেই মনে হয়, ১১ মাসের এই জোট সরকারকে রাজনৈতিক দিকে কোণঠাসা করতে যে উনি কোনো কসর ছাড়েন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবুও পাঠকদের জ্ঞাতার্থে আমরা কিছু ঘটনা আবারো তুলে ধরবো,
রাজনৈতিক ত্রিপুরার চাণক্য কিংবা সুবক্তা হিসেবে পরিচিত একজন ধৈর্যশীল অমায়িক ব্যক্তির ব্যবহার কি করে রাতারাতি পরিবর্তন হয়ে গেল, তা নিয়ে একসময় আমরাও হতভম্ব হয়েছিলাম, পরিশেষে একের পর এক অনুসন্ধ্যান থেকে যা সামনে আসল, তা আসলে বর্তমান বিজেপি সরকারের জন্য একশো শতাংশ উদ্বেগের কারণ, আর আপনি যদি মোদীজী এবং বিপ্লব কুমার দেবের নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে থাকেন তাহলে আপনার তা জেনে রাখা একান্ত আবশ্যক।

রাজনৈতিক দিক থেকে সুচতুর রতন লাল নাথ, রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী হওয়ার সুবাদে শিক্ষাক্ষেত্রের প্রশাসনিক দিক শুধরানোর বাহানা দেখিয়ে প্রতিনিয়ত বিজেপি জোট সরকারের ক্ষতি করে গেছেন বলে রাজনীতিক মহলে গুঞ্জন, উনি যে কটা স্কুলে কিংবা কলেজে গিয়েছেন সেখানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে শিক্ষকদের অপমান করেছেন, এমনকি শিক্ষার্থীদেরও আরো আধুনিক হওয়ার কথা বলে ওদের কে পিছিয়ে পড়া অজ্ঞান মুর্খ বলে আখ্যায়িত করেছেন বলে অভিযোগ, শিক্ষকদের কে সময়ানুবর্তীতা এবং দায়িত্ববোধের জ্ঞান উনি শিক্ষার্থী এবং মিডিয়াকে সামনে রেখে ঝাড়ছিলেন, ফলত উনার এই জ্ঞান শিক্ষকদের কোনো কাজে আসেনি উল্টা উনার দ্বারা প্রকাশ্যে অপমানিত সরকারী শিক্ষকদের বিজেপি জোট সরকার সম্পর্কে সম্পূর্ণ নেগেটিভ ধারণা সৃষ্টি হয়,
প্রথমত বিষয়টাকে গুরুত্ব না দিলে, উনার পরের বক্তব্যে আরোও স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সরকারী কর্মচারীর পর এবার উনার টার্গেট রাজ্যের শিক্ষিত বেকার সমাজ, উনি বেকার সমাজদের উদ্দ্যেশে বলেন যে উনার হাতে ১৪ হাজারের বেশী চাকরি আছে কিন্তু পাওয়ার যোগ্যতা কারো নেই, এই উক্তির মাধ্যমে উনি রাজ্যের শিক্ষিত বঞ্চিত বেকারদের আবারো মুর্খ্য এবং অশিক্ষিত অর্থাৎ সরকারী চাকরি পাওয়ার অযোগ্য বলেই ঘোষণা করে দেন, উল্লেখ্য উনার এই বক্তব্যে রাজ্যের বৃহৎ অংশের বেকার সমাজের মনে বিজেপি সরকারের ভাবমূর্তি শুধুমাত্র নষ্ট হয় নি, সাথে বিজেপি সরকারের জনপ্রিয়তায় ব্যাপক হানি ঘটেছে বলে অনুমান, উনার বক্তব্যের প্রভাব লোকসভা নির্বাচনে পরবে ।

কিন্তু গতদিন টিআরবিটির পক্ষ থেকে দেওয়া ‘টেট পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ’ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে একদম স্পষ্ট বলা যায় যে রতন লাল নাথ বিজেপি সরকারকে পতন করেই শ্বাস ফেলবেন এরকমই চায়ে পে চর্চা চলছে রাজ্যের অলিতে গলিতে।
স্বপ্নের ত্রিপুরা পরিবর্তনের পর একের পর এক ঝাটকা খাচ্ছে বেকার সমাজ, এরই মধ্যে গতকালের টেট বন্ধের বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্যে সহস্র শিক্ষিত বেকার মহলে তীব্র হতাসা দেখা দিয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রী কর্তৃক খামখেয়ালিপনার মাশুল দিতে হচ্ছে রাজ্যের বিজেপি সরকারকে । উল্লেখ্য কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে আসা বিধায়ক মন্ত্রীগণ আবারো আকশে চিল দেখছেন কেন্দ্রে কংগ্রেস আসলে উনারা বিজেপি ভেঙে সিপিএম,আইপিএফটি জোট সহ (১৬+৭±৯) ফরমেশন ত্রিপুরাকে কব্জা করবেন, আর তখন যেন জনতার ক্ষোভের সম্মুখীন না হতে হয় এই জন্য এখন থেকেই বিজেপি সরকারকে বদনাম করতে উঠে পড়ে লেগেছেন কংগ্রেসী লড়াকু নেতারা । তাই বিপ্লব কুমার দেব ও অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্ব কিভাবে এই জঠিল সমস্যাকে সমাধান করে রাজ্যের বিজেপি সরকারকে বদনাম এবং কুৎসা থেকে রক্ষা করেন তাই এখন দেখার বিষয়।

One thought on “ঘরের শত্রু শিক্ষামন্ত্রী-বিজেপি কে হারাবেন?

Leave a Reply