জ্বলন্ত কাশ্মীর, রাজনৈতিক না ধর্মীয় কারণে?

Share

জ্বলন্ত কাশ্মীর , কাশ্মীর ভারতের একটি জ্বলন্ত ও জটিল সমস্যা । শুধু ভারত নয় সমগ্র বিশ্বের মহলেও এটি জটিল সমস্যা , যদিও একে রাজনৈতিক সমস্যা বলা হয় কিন্তু এটা একটি ধর্মীয় সমস্যা । এই সমস্যার স্থায়ীত্ব সুদীর্ঘকাল, – প্রায় 70 বছর ব্যাপী, 70 বছর বললে ভুল হবে, এই সমস্যা প্রায় 650 বছর ব্যাপী বা তার আগের । ভারতের স্বাধীনতার পর এই সমস্যা ভয়াবহ রুপ নিয়েছে , বিগত তিন দশক থেকে আরও ভয়াবহ । আর এর মূলে আছে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত জওহরলাল নেহরু ।
বিগত তিন দশক থেকে এই সমস্যা ব্যাপক ভয়াবহ হয়ে উঠেছে । 1988 সাল থেকে ইসলামিক জিহাদী কর্মকান্ড ভয়াবহ রূপ নেয় । 1990 সালের জানুয়ারি মাসের বিশেষ করে 19 জানুয়ারি কাশ্মীর উপত্যকার ভূমিপুএ হাজার হাজার কাশ্মীরী পণ্ডিতদের কাশ্মীর উপত্যকা থেকে পলায়নে বাধ্য করা হয়, এই পলায়ন ছিল কাশ্মীরী পণ্ডিতদের সপ্তম পলায়ন । বিগত তিন দশক থেকে কাশ্মীর উপত্যকায় কাশ্মীরী পন্ডিত থেকে শুরু করে হাজার হাজার রাষ্ট্রবাদী মুসলিম, ভারত মায়ের বীর জওয়ানদের শহীদ করেছে ইসলামিক কট্টরপন্থী জিহাদীরা , এর বিচার কি হবে?
কাশ্মীর সমস্যা রাজনৈতিক সমস্যা নয়, এটা ধর্মীয় সমস্যা , যা চলে আসছে প্রায় 650 বছর ব্যাপী । 1370 সালের দিকে বিখ্যাত সূফী দরবেশ সাঈদ আলী হামদানী কাশ্মীর উপত্যকায় আসে এবং একটি ছোট মন্দির ভেঙে ওই জায়গায় তাঁর আস্তানা স্থাপন করে । এই সময় কাশ্মীরের সহনশীল হিন্দু সংস্কৃতির প্রতি সুলতান থেকে কাজী পর্যন্ত সকল মুসলিম প্রভাবিত ছিল । সাঈদ এই প্রভাব দূর করতে চেয়েছিল , কিন্তু সে ব্যর্থ হয়ে চলে যায় ।
তারপর সাঈদ আলীর পুএ আমীর সাঈদ বিখ্যাত প্রতিমা ধ্বংসকারী সুলতান সিকান্দারের শাসনকালে কাশ্মীরে আসে ও সুলতান সিকান্দারকে ইসলামিক আইন কার্যকর করার কাজে লাগায় । কাশ্মীর থেকে মূর্তিপূজা ও পূজারীদের নিশ্চিন্হ করার জন্য সিকিন্দার ও সূফী সাধক হাত মেলায় । ” কাশ্মীরে মুসলিম ছাড়া অন্য কোন ধর্মের অনুসারী বসবাস বেআইনি ঘোষণা করে । অনেক কাশ্মীরী পন্ডিত তাঁদের ধর্ম অথবা দেশ ত্যাগ এর পরিবর্তে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন । কেউ কেউ কাশ্মীর উপত্যকা ছেড়ে দেশান্তরীত হন, কেউ কেউ মুসলমান হন । পন্ডিতরা উপত্যকা ত্যাগ এর পর সিকান্দার কাশ্মীরের সকল মন্দির ধ্বংস করার নির্দেশ দেয় । কাশ্মীর এর সকল মন্দির এর প্রতিমা ধ্বংস করে সিকান্দর প্রতিমা ধ্বংসকারী উপাধি অর্জন করে ।
সিকান্দার এর পর তাঁর ছেলে আমীর খান কাশ্মীর উপত্যকায় হিন্দু নিধন জারি রাখে । এর পরে যে সামান্য কিছু সংখ্যক পন্ডিত তাঁদের স্ব -ধর্মে থাকে তাদেরকে নির্যাতন করে এবং যারা ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন তাঁদের সকলকে হত্যা করা হয় । তারপরও কিছু সংখ্যক কাশ্মীরী পন্ডিত উপত্যকায় বহাল থাকেন ।
সেই 1370 সাল থেকে শুরু করে 1990 সাল পর্যন্ত চলে কাশ্মীরী পণ্ডিতদের উপর অত্যাচার এখনও চলছে । 1990 সালের কাশ্মীরী পণ্ডিতদের যে পলায়ন ছিল সেটা ছিল সপ্তম পলায়ন, এটাকে শেষ পলায়ন বলা যেতে পারে এই পলায়নে পর কাশ্মীর প্রায় পন্ডিত তথা হিন্দু শূন্য হয়ে যায়, যা আছে তা খুব নগন্য । সেই 1370 সালে থেকে বর্তমান আজ পর্যন্ত হাজার হাজার ভারত মায়ের বীর জওয়ানরা শহীদ হচ্ছেন , এর বিচার কি হবে?

Leave a Reply