ইমরানের মাথায় কি ঘুরছে?

Share

আসুন না, একটু অন্য রকম করে ভাবি… ! অঅনির্বাণ দাশগুপ্ত

ভারত মায়ের বীর পুত্র অভিনন্দন বর্তমান বিমান ভেঙে পাক দখলকৃত কাশ্মীরে স্থানীয় মানুষের হাতে ধরা পড়া এবং আটকে মারধরের ছবি যদি ওখানকার বাসিন্দারা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোষ্ট না করতো, যদি অভিনন্দন এর সেদেশে আটক হওয়া প্রকাশ না পেতো, এদেশের পাক প্যায়ারুদের ভাষায় ‘শান্তিকামী’ এই পাকিস্তানের মতো জঙ্গী দেশ কি অভিনন্দনকে ছাড়তো?

উর্দি পরা ছবি এবং ভিডিও ফুটেজ সহ অভিনন্দন এর পাকিস্তানে আটক হওয়া প্রকাশ পাওয়ায় এমনিতেই জেনেভা চুক্তির কারণে, আন্তর্জাতিক চাপের কারণে পাকিস্তান অভিনন্দনকে প্রত্যাবর্তন করতে বাধ্য ছিল। তাছাড়া ভারতের হামলার ভয় তো ছিলই। অর্থনৈতিক অবস্থাও ভালো নয়।

কিন্তু কারা এই বাধ্য হওয়াটাকেই পাকিস্তানকে মহান হিসাবে তুলে ধরছে? এরা কারা? হ্যাঁ, সেদেশের হাতে গোনা কিছু লোক অভিনন্দনকে ছেড়ে দেবার দাবি জানিয়েছে ঠিকই , কিন্তু সেটার পেছনেও নিশ্চয়ই ছিল ঐসব অঙ্ক। অভিনন্দনের মতো উর্দি পরা যুদ্ধ রত কোন সেনা নয়, আমরা তো আমাদের দেশে মুম্বই হামলার মতো ভয়াবহ হামলার মূল আসামী পাকিস্তানের কাসভের মতো সন্ত্রাসবাদীর সমর্থনে অনেককে এগিয়ে আসতে দেখেছি, পিটিশনে সই করতে শুনেছি।

যা বলছিলাম, ইমরান আলাদা কিছু হবে কেন? বাংলাদেশ পাকিস্তানের মতো মুসলিম প্রধান দেশে হেফাজতের হাত ধরে চলা হাসিনা জিতুক আর জামাতের হাত ধরে চলা খালেদা বা ইমরান জিতুক আর হাফিজ, জেতে কিন্তু আসলে মৌলবাদই। জেতে কিন্তু ভারত বিদ্বেষের নামে হিন্দু বিদ্বেষই। যে’ই জিতুক, এই পুতুলের সুতো বাঁধা থাকে মৌলবাদী শক্তির হাতেই।

যদি তা না হতো…,
হাফিজ সৈয়দকে ধরে ভারতের হাতে তুলে দিত, তুলে দিত মাসুদ আজহারকে, তুলে দিত দাউদকে। এভাবে জামাই আদরে রাখতো না লাদেনকেও। গুঁড়িয়ে দিত জঙ্গী শিবির গুলি ।

যদি তা না হতো…,

একজন সাংসদ, সেদেশের একজন মন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে ভারত আর হিন্দু, পাকিস্তান আর মুসলমান এক করে দেখিয়ে জেহাদকে মুসলমানদের আবশ্যিক কর্তব্য বলে ঘোষণা করতে পারতো না। বলতে পারতো না, ভারতের মুসলমানরা যে পাকিস্তানের দিকে চেয়ে আছে। সংসদে দাঁড়িয়ে কিন্তু, কোন রাজনৈতিক সভা বা সাংবাদিক সম্মেলনে নয়। মাসুদ আজহারের মতো সন্ত্রাসবাদী প্রকাশ্যে সমাবেশে সেদেশের সরকারকে ভারতের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বিরোধিতা করে হুমকি দিতে পারতো না।

দোষ পাকিস্তানের নয়, কোন দেশের নিজস্ব কোন চরিত্র থাকতে পারে না। সেটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে সেদেশের সংখ্যাগুরুদের মানসিকতার উপরই। যতোই বলা হোক পাকিস্তানের সাধারণ জনতা সত্যিই শান্তির দূত হলে পাকিস্তান এভাবে সন্ত্রাসের আঁতুড় ঘর হয়ে উঠতো না, দেশের মানুষ মেনে নিত না। বরং উল্টোটাই, দেশের মানুষের চাহিদার সঙ্গে মিলিয়েই দেশটার চরিত্র এরকম।

Leave a Reply