নিজ স্বার্থে দলবিরোধী তাজ উদ্দিন।

Share

বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনের পূর্বে ত্রিপুরার বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েতের ন্যায় ধলাই জেলার দুর্গাচৌমুহনী ব্লক অন্তর্গত কুচাইনালা গ্রাম পঞ্চায়েত ভাগ হয়ে ওয়েষ্ট কুচাইনালা নতুন গ্রাম পঞ্চায়েত হিসেবে আত্ম প্রকাশ করে। কিন্তু ২০১৪ সালে নতুন এই পঞ্চায়েতের কার্যালয় নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হলেও জায়গার সমস্যার জন্য কার্যালয় নির্মাণ করতে বিগত সরকার ব্যর্থ হয়। তাই এতোদিন যাবত অস্থায়ী ভাবে পঞ্চায়েতের কাজকর্ম গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত মেথিরমিঞা গ্রামের প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে চলছিল। নতুন বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর গ্রামেরই এক সহৃদয় ব্যক্তি যিনি আবার আরএসএস এর স্বয়ংসেবক, তিনি জায়গা দান করলে জায়গার সমস্যা সমাধান হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, এই ব্যক্তি বাম আমলেও পঞ্চায়েতের জন্য এই একই জায়গা দান করতে রাজি ছিলেন। জায়গাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় মধ্যবর্তী হওয়া সেই সময়ে ঐ পঞ্চায়েত এলাকার বেশ কিছু বামপন্থী নেতৃত্বও এই জায়গায় পঞ্চায়েত কার্যালয় নির্মাণে সম্মত ছিলেন। কিন্তু তখনকার সিপিএম এর প্রাক্তন বিধায়ক অঞ্জন দাস এক তরফা ভাবে তা নাকচ করে দেন, কারন জায়গা দানকারী একজন সংঘের স্বয়ংসেবক বলে। নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আবার যখন কার্যালয় নির্মাণে তোড়জোড় শুরু হয়, তখন এখন যেখানে অস্থায়ীভাবে পঞ্চায়েতের কাজকর্ম চলছে সেই অস্থায়ী কার্যালয়ের আশেপাশের মেথিরমিয়া গ্রামের কিছু লোক এই উদ্দ্যোগে বাধ সাধে। এই সমস্যা সমাধানে এলাকার বিধায়ক আশীষ দাস আজ থেকে প্রায় চার মাস আগে এই পঞ্চায়েতের সকলকে নিয়ে এই পঞ্চায়েতেই অন্তর্গত শ্রীদামপুর দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ে একটি বৈঠক করে এলাকাবাসীরর সর্ব সম্মতিক্রমে নতুন জায়গায় পঞ্চায়েত কার্যালয় নির্মাণে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সেই বৈঠকে বৃহৎ অংশের জনগণ ছাড়াও এলাকার সকল স্তরের নেতৃবৃন্দ, যেমন অনাদি সরকার, পরিতোষ চক্রবর্তী, আশীষ দাস, অনিল দাস, অনিল মালাকার, সমীর দাস, লক্ষ্মণ দাস সহ তাজ উদ্দিন আহমেদ খান উপস্থিত ছিলেন। সেই অনুসারে পঞ্চায়েত কার্যালয় নির্মাণের কাজও শুরু হয়। এবং বর্তমানে নির্মাণের কাজ চলছেও। এমতাবস্থায় বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সুরমা মণ্ডল সভাপতি তাজ উদ্দিন আহমেদ খান নতুন করে ঝামেলা পাকাতে শুরু করেন। উনার একটাই উদ্দেশ্য যেনতেন প্রকারে পঞ্চায়েত কার্যালয় উনার বাড়ির কাছেই রেখে দেওয়া। এতে উনার পঞ্চায়েতের কাজকর্মে প্রভাব বিস্তারে বিরাট সুবিধা হয়। এই চক্রান্তের অঙ্গ হিসেবেই আজ হঠাৎ করে মুষ্টিমেয় কয়েকজনকে নিয়ে উনি মানিকভান্ডার বাজারে পঞ্চায়েতের নতুন কার্যালয় নির্মাণ আটকে দিতে রাস্তা অবরোধে নামেন। এবং সেইখানে একজন দায়িত্বশীল বিজেপির নেতৃত্ব হিসেবে এলাকার বর্তমান বিধায়ক আশীষ দাস সম্বন্ধে অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং দল বিরোধী বক্তব্য রাখেন। সাথে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে এলাকার পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করেন। আরো উল্লেখনীয় যে, সম্পূর্ণ বিষয়টি সুরমা বিধানসভা এলাকার হলেও, তিনি আজ ককমলপুর বিধানসভা এলাকায়, সেখানকার নেতৃবৃন্দের সাথে কোন যোগাযোগ করেই রাস্তা অবরোধে বসে পড়েন। যার ফলে এই এলাকার বিজেপি নেতৃত্বরাও পড়ে যান মহা ফেসাদে। একে তো বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সুরমা মন্ডল সভাপতি, তারপর বর্তমান বিজেপি সরকারের আমলে বিজেপি নেতৃত্ব দ্বারা রাস্তা অবরোধের নামে জনগণের হয়রানি।

Leave a Reply