৯৬ ঘন্টার ইন্টারনেট শাটডাউন আপনার মতামত কি?

Share

প্রসঙ্গ ইন্টারনেট শাটডাউনঃ

-ভাস্কর নন্দন সরকার






এক বছর পাঁচ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ত্রিপুরাতে বসবাসকারী আমার মত সাধারণ মানুষ দশ দিন ইন্টারনেট পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছি ৷ বিনা অপরাধে ৷ হ্যাঁ,একথা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে প্রতিবারই আগের #বাম এবং বর্তমানের #রাম সরকার কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর লক্ষেই এই পদক্ষেপ নিয়েছিলো ৷ সাধারণ মানুষ কখনোই অশান্তি হউক এটা চাইবেন না ৷
ইন্টারনেট বন্ধ করে দিলেই অশান্তির বাতাবরণ তৈরী করা যাবেনা , এ তত্বে যারা বিশ্বাস করেন আমি অন্তত তাঁদের দলে নেই ৷যারা অশান্তি সৃষ্টি করেন ,সংখ্যায় নগন্য হলেও এঁরা কিন্তু সাংঘাতিক রকমের চালাক এবং ভয়ংকর ৷
একটা উদাহরণ দিলেই স্পষ্ট হবে বিষয়টা ৷ ১৯৮০সালে যখন দাঙ্গা হয়, তখন কিন্তু রাজ্যে ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার হতোনা ৷ তবুও,প্রচুর মানুষের ক্ষতি হওয়াটা আটকানো গিয়েছিলো কি? আমি তখন অনেক অনেকই ছোট ছিলাম ৷বড় হয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার কারন জানতে চেয়েছি ৷ তাঁদের অধিকাংশেরই মতামত এমন ছিলো যে এই ঘটনার পেছনে যতোটা না জাতিগত বিদ্বেষ ছিলো,তার চেয়েও বেশী করে দায়ী ছিলো জাতি ও জনজাতি অংশের মানুষের মধ্যে চিরকালীন বিভেদরেখা রচনা করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটে নেবার এক গভীর ষড়যন্ত্র ৷ ফায়দা লুটে নিয়েও আজ অবদি যাদের তৃৃপ্তি মিটলো না,তাঁরাই চাইছে আবারও হিংসায় জ্বলে উঠুক রাজ্যটা ৷
বর্তমান পৃৃৃথিবী ইন্টারনেট নির্ভর ৷ এই চারদিন পরিষেবা বন্ধ রাখায় বহু মানুষের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৷ ত্রিপুরার নুতন সরকার স্বপ্ন দেখাচ্ছে রাজ্যকে পর্যটন মানচিত্রে দেশের মধ্যে অন্যতম সেরা আকর্ষণ হিসাবে তুলে ধরতে ৷ আইনশৃৃৃঙ্খলা বজায় রাখার নামে যদি এভাবে ইন্টারনেট পরিষেবাটাই বন্ধ করে দেয়া হয়, তাহলে দেশবিদেশের যে সকল পর্যটকেরা আসবেন রাজ্যে,ওনারা পুনরায় রাজ্যে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন ৷
রাজ্যের কয়েক লক্ষ মানুষ স্মার্টফোন/আইফোন নির্ভর ৷ অনেকেই মোবাইল রিচার্জ থেকে শুরু করে ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম থেকে শুরু করে অনেক রকমের অনলাইনে করতে বেশী পছন্দ করেন ৷ বেশীরভাগের ক্ষেত্রে ব্যাংক একাউন্টেই #স্ট্যান্ডিং_ইনস্ট্রাকশনও দেয়া থাকে ৷ সেক্ষেত্রে নেট বন্ধ থাকার কারনে যদি সময়মত পেমেন্ট না হয়,গ্রাহককে এর জন্য মাশুলও গুনতে হয় ৷ এককথায় ইন্টারনেট মানব জীবনের অপরিহার্য অঙ্গ ৷ একে বাদ দিলে এই ভুবনটাই অচল ৷
এর চেয়েও বড় কথা ইন্টারনেট বন্ধ করে দিলে মানুষের রোজগারে হাত পরে ৷ অনলাইন শপিং এর যুগে ডেলিভারী বয় হিসাবে দিনরাত পরিশ্রম করে যারা এ প্রান্ত ও প্রান্ত ঘুরে ঘুরে পয়সা রোজগার করেন,নেট শাটডাউন থাকলে তাঁদের পেটে লাথি পরে ৷ গতকালই এমন একজনকে দেখে জিজ্ঞাসা করেছিলাম,”ভাল আছ?” সে বললো,”না ,দাদা ৷ এ কদিনে একটাকাও রোজগার হয়নি ৷” শীতের মরশুমে ভ্রমণ পিপাষু মানুষজন উইকএন্ডে বাড়ির বাইরে রাত কাটানোর জন্য সরকারী রেস্টহাউজ বুকিংটাও অনলাইনে করতে না পারলে তো সরকারেরও রাজস্ব ক্ষতি হয় ৷






    বহুমানুষ রাজ্যের বাইরের চিকিৎসকদের সঙ্গে মোবাইল কনফারেন্সিং বা ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমেও চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ গ্রহণ করে থাকেন ৷ হুট করে নেট শাটডাউন হয়ে গেলেতো মানুষের জীবনও বিপন্ন হতে পারে !    এর সঙ্গে জড়িত থাকে সাধারণ গ্রাহকদের আর্থিক লোকসানের দিকটাও ৷ যেমন, আমি ৯১দিনের জন্য ৪৪৯টাকার প্যাক ব্যবহার করি,অর্থাৎ দিনে ৪টাকা ৯৩পয়সা হিসাবে চারদিনে আমারই ক্ষতি হলো ১৯টাকা ৭২পয়সা ৷ এমন ধরনের প্যাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা রাজ্যে যদি  চার লক্ষ থাকেন, তাহলে এই চারদিনে ৭৮লক্ষ৮৮হাজার টাকা তাঁদের গচ্চা গেল ৷ অহেতুক এই ভোগান্তির জন্য হয়তো আমাদের মধ্যে কেউই দায়ী নন ৷       তাই রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রীবিপ্লব কুমার দেবের নিকট নিম্নলিখিত বিষয়গুলির দিকে নজর দিতে বিনম্র অনুরোধ করছি:-




১)রাজ্যের সাইবার ক্রাইম সেলকে অত্যাধুনিক করা হউক
২)২৪x৭ ভিত্তিতে মনিটরিং টিমকে এক্টিভ রাখার ব্যবস্থা করা হউক
৩)সাইবার সেল কোন ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনার সময় খুব ভাল করে নেট ট্র্যাকিং করে যারা যারা অশান্তির ব্লুপ্রিন্ট রচনা করতে চাইছে,তাঁদেরকে দ্রুত সনাক্ত করে গ্রেপ্তার করবার ব্যবস্থা নিক ৷
৪) প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার #আনএডিটেড ফুটেজগুলি সরাষ্ট্রমন্ত্রক নিজের কাছে নিক এবং ভাল করে পরীক্ষা করলেই বোঝা যাবে কারা কারা উস্কানি দিচ্ছিলো বা সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরী করেছিলো ৷
৫) এবার ওদের বিরুদ্ধে আনা হউক non-bailable sectionএ ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হউক ৷ ৬)পুলিশকে ৪৮ঘন্টার আলটিমেটাম দিয়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করবার নির্দেশ দেয়া হউক
৭)মনে রাখতে হবে দুষ্টকে দমন করতে হলে কঠোর হতেই হবে ৷ ভিডিও ফুটেজগুলি তদন্ত কমিশণের হাতে তুলে দেয়া হউক(মুখ্যমন্ত্রী ম্যাজিস্ট্রেট লেভেল তদন্ত হবে বলে জানিয়েছেন) ৷
আইপিএফটি কিন্তু পরিস্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে ঘটনার সাথে ওদের সর্মথক বা কর্মীরা জড়িত নন ৷ তাহলে একদিক থেকে সরকারের সুবিধাও হয়েছে আইনি পদক্ষেপ নিতে ৷
আজ জেএনইউ কান্ডের কথাটা খুব মনে পড়ছে ৷ #ভারততেরেটুকরেহোঙ্গে বাহিনীর শত প্ররোচণা সত্যেঔ কিন্তু মোদিজি তখন দমেননি ৷ বরং পরবর্তীতে তদন্ত কমিটি পরিস্কারভাবেই জানিয়ে দিয়েছিলো যে দেশবিরোধী স্লোগান ঠিকই উলেছিলো ওরা অর্থাৎ উমর খালিদ এবং #আফজলগুরু গ্যাঙ ৷ রাজ্য সরকারকেও অত্যন্ত কঠোর হাতেই দমন করতে হবে এসব #স্কাউন্ড্রেলদেরকে ৷ এজন্য প্রয়োজন অত্যন্ত #কড়াডোজের ৷ নাহলে ভবিষ্যতে law unrestnessএর মত পরিস্থিতি তৈরী হতে পারে ৷



       আশা রাখবো ভবিষ্যতে আমাদের মত সাধারণ মানুষকে ইন্টারনেট শাটডাউন জনিত কারনে হয়রানি হতে যাতে না হয়, সেদিকে রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে ৷ জয় হিন্দ !!!

Leave a Reply