মূর্তি নিয়ে বিতর্ক কেন?- অনির্বাণ দাসগুপ্ত।

Share

রবীন্দ্রনাথ কি লেনিনের মতো দেখতে ছিলেন…? নিশ্চয়ই ছিলেন। বাম জমানা তো, রবীন্দ্রনাথকেও যে লেনিনের মতোই দেখতে হতে হবে!

যাঁরা ত্রিপুরার, তাঁদের নিশ্চয়ই মনে আছে, আগরতলার রবীন্দ্র ভবনের সামনে নতুন গড়া রবীন্দ্রনাথের মূর্তির আবরণ সরিয়ে সবাই কী রকম চমকে উঠেছিলেন…! রবীন্দ্রনাথের মূর্তি, অথচ মুখটা লেনিনের। তখন বাম জমানা, বিপ্লবীরা শেষ পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথকেও ছাড় দেয় নি । বাম সরকার ভেবেছিলো ত্রিপুরার সবাই বিপ্লবী হয়ে গেছে বা ফ্যাসিস্ট বাম জমানায় কার সাহস হবে প্রতিবাদ করার । বিতর্ক কম হয় নি এ নিয়ে । শেষ পর্যন্ত রাজ্য জুড়ে নিন্দা আর বিতর্কের মুখে সরকার স্বীকার করতে বাধ্য হয় ভুল হয়ে গেছে এবং পরে রবীন্দ্রনাথের অন্য মূর্তি বসানো হয় ।

কারোর কিন্তু কোন শাস্তি হয় নি। এবার মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য র মূর্তি নিয়ে বিতর্ক। বিগত সরকার তো মহারাজার স্মৃতি মুছিয়ে দেওয়ার কম চেষ্টা করে নি। নতুন সরকার ঘোষণা করেছিল আগরতলা বিমান বন্দরের নাম মহারাজার নামে করার। সেই অনুযায়ীই মূর্তি গড়ার পরিকল্পনা।

আগের পাঁচ, পরের একটানা পঁচিশ বছরের জমানা পাল্টালে কী হবে, সব তো রয়ে গেছে সেই আমলেরই। এই দীর্ঘ বাম শাসনের সম্পূর্ণ দলতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় চাকরি থেকে পদোন্নতি – সব ক্ষেত্রে যোগ্যতা বলতে দেখা হত শুধু পার্টির প্রতি আনুগত্য। এ দেশের সবচেয়ে বড় চাকুরী কেলেঙ্কারি, ১০৩২৩ জন শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় তো অনেকেই জানেন। ফলে জমানা পাল্টালে কী হবে, ঝাড়ুদার থেকে শুরু করে পদস্থ আমলা, সব জায়গাতেই মেলার মাঠের অনুগতরাই। এরা এখন জামা পাল্টে গেরুয়া হয়ে গেলে কী হবে, নানাভাবে এরাই অনভিজ্ঞ নতুন সরকারকে নানাভাবে বিপথে চালিত করার চেষ্টা করছে সরকারের বন্ধু সেজে ।

এরা হয়তো চেয়েছিল, মহারাজার মূর্তি নিয়ে ত্রিপুরার স্পর্শকাতর জাতি জনজাতি ইস্যুতে উত্তেজনা উস্কে দিতে নতুন সরকারের প্রতি জনজাতিদের ক্ষুব্ধ করে তুলতে।

ছবিতে ক্লিক করে পড়ে দেখুন, কতটুকু নীচে এরা নামতে পারে! ক্ষমতার জন্য এরা পারে না, এমন কোন কাজ নেই।

Leave a Reply