1500 সাধুর মধ্যে 1100 জন সাধু হাই কোয়ালিফাইড-ডক্টর,প্রফেসর,PHD হোল্ডার।

Share

আজ ছিলো প্রয়াগরাজে ২০১৯ সালের কুম্ভের দ্বিতীয় শাহী স্নান। এই স্নান মৌনি আমাবশ্যার দিনে সম্পন্ন করা হয়। এইবার এই তিথিটা আজ ৪ ফেব্রুয়ারি পড়লো। প্রথম রাজকীয় স্নানের সাথে 15 জানুয়ারী, ২০১৯ এ শুরু হওয়া কুম্ভ মেলা ৪ মার্চ পর্যন্ত চলবে। ইউনেস্কো কুম্ভকে বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মীয় সম্মেলনের স্বীকৃতি দিয়েছে। এই মেলায় আসা সাধু ও আখড়া আকর্ষণের কেন্দ্র থাকে। এদের মধ্যে এক আখড়া নিরঞ্জানি আখড়া, যার মধ্যে ৭০ শতাংশ সধু-সন্ন্যাসী উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত। এর মধ্যে রয়েছে ডাক্তার, আইন বিশেষজ্ঞ, অধ্যাপক, সংস্কৃত পণ্ডিত ও আচার্য। তাদের সম্পর্কে কিছু আকর্ষণীয় তথ্য জেনে নেয়া যাক।

নিরঞ্জন আখড়ার চিকিৎসক-আইন বিশেষজ্ঞ এবং প্রফেসর:-

  • এই আখড়ার মহেশানন্দগিরি ভূগোল এর প্রফেসর, বলকানন্দ জি ডাক্তার এবং পূর্ণানন্দগিরি আইন বিশেষজ্ঞ (আইন বিশেষজ্ঞ) এবং সংস্কৃত পণ্ডিত।
  • সন্ত স্বামী আনন্দগিরি নেট কোয়ালিফাইড। তিনি আইআইটি খড়গপুর, আইআইএম শীলং এ বক্তৃতা দিয়েছেন। এখন বানারাস থেকে পিএইচডি করছেন। শান্ত আশুতোষ পুরি নেট কোয়ালিফাই করেছেন এবং পিএইচডি করেছেন।

এই আখড়ার ১৫০ এর মধ্যে ১০০ এর বেশি মহামন্ডলেশ্বর উচ্ছ শিক্ষিত।

  • আখড়া পরিষদের অধ্যক্ষ নরেন্দ্র গিরি জানালেন নিরঞ্জনী আখড়া প্রয়াগরাজের হরিদ্বারে পাঁচটি স্কুল ও কলেজে পরিচালনা করে। হরিদ্বারের তাদের সংস্কৃত কলেজও রয়েছে। কলেজগুলোর ব্যবস্থাপনা ও দেখাশুনা সন্ত দ্বারা পরিচালিত হয়, সময়-সময়ে, শিক্ষার্থীদের পড়াশুনাও করান।
  • নিরঞ্জনী আখড়ার ১৫০ এর মধ্যে ১০০ টি মহামন্ডলেশ্বর এবং ১৫০০ সাধুর মধ্যে ১১০০ জন সাধু উচ্বশিক্ষিত।

নিরঞ্জন আখড়া খুবই প্রষিদ্ধ। সিদ্ধার্থ শংকর গৌতম উনার বই সনাতন সাংস্কৃতির মহাপর্ব তে লিখেছেন ৯০৪ বছর আগে গুজরাটের মাডবী তে নিরঞ্জন আখড়ার স্থাপনা হয়েছিল। জেখানে ইতিহাসবিদ যদুনাথ সরকার এটাকে ১৯০৪ বলেছেন। প্রমাণ অনুযায়ী, বিক্রম সম্বত ৯৬০ এ এর প্রতিষ্ঠা হয়েছিল।

সব আখড়ার মধ্যে নিরঞ্জনীআখড়া সবচেয়ে বিখ্যাত। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিক্ষিত সাধু-সন্ন্যাসী শিব পরম্পরা কে মেনে চলেন।এরা জটা রাখেন। উনাদের আরাধ্য দেব কার্তিক। যিনি দেবতাদের সেনাপতি।

নিরঞ্জনী আখড়ার ইতিহাস ডুঙ্গরপুর রাজতন্ত্র এর রজ্গুরু মোহনানন্দ এর সময় থেকে পাওয়া যায়।

আদিগুরু শংকরাচার্য ভারতের চার কোণে চারটি পিঠের নির্মাণ করেন। এগুলি হলো – গোবর্ধন পিঠ, সারদা পিঠ, দ্বারিকা পিঠ এবং জ্যোতির্মঠ পিঠ। এছাড়াও ভারতের বিভিন্ন মঠ ও মন্দিরের রক্ষার জন্য সনাতন হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোককে একত্রিত করে তিনি বিভিন্ন আখড়ার সূত্রপাত করেন।

কয়েকটি প্রসিদ্ধ আখড়া – শ্রী নিরঞ্জনী আখড়া, শ্রী জুনা আখড়া, শ্রী মহানির্বান আখড়া, শ্রী অটল আখড়া, শ্রী আনন্দ আখড়া, শ্রী পঞ্চগনি আখড়া, শ্রী গোরক্ষনাথ আখড়া, শ্রী বৈষ্ণব আখড়া, শ্রী নির্মল আখড়া, শ্রী নির্মোহী আখড়া।

শংকরাচার্য বুঝতে পারেন কেবলমাত্র আধ্মাতিক শক্তি বিদেশী শক্তির মোকাবিলা করার জন্য যথেষ্ট নয়। উনি যুবক সাধুদের শরীর গঠন এবং অস্ত্র শিক্ষার উপর জোর দেন। অনেকবার অনেক রাজা মহারাজাও বিদেশী আক্রমণকারীদের হাত থেকে বাঁচার জন্য নাগা সাধুদের সাহায্য নেন। ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে দেখা যাবে প্রায় ৪০০০০ নাগা সন্ন্যাসী বিভিন্ন সময় যুদ্ধে অংশ নেন। আহমেদ শাহ আবদালি গোকুল আক্রমণ করলে নাগারাই গোকুলকে রক্ষা করে।

12 thoughts on “1500 সাধুর মধ্যে 1100 জন সাধু হাই কোয়ালিফাইড-ডক্টর,প্রফেসর,PHD হোল্ডার।

  1. I understood the history and present sadhu- santa’s activities.That is the hinduism. we are protect by thier services.

  2. এঁদের দীক্ষা , সাধনা ও আহার সম্পর্কে জানতে চাই ।

  3. এটা কি ঐ ‘ঘাটের মড়া’ তথাকথিত ‘ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমতি’র প্রতিষ্ঠাতা প্রবীর ঘোষের নজরে পড়েছে? যে কি না ভারতের সনাতন আধ্যাত্মবাদকে সরাসরি কুসংস্কার বলে সর্বদা খাটো করে ও সমাজের পক্ষে ক্ষতিকারক বলে জন মানসে বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে ক্রমান্বয়ে প্রচার ও আন্দোলন করে আসছে! ঐ প্রবীর ঘোষ ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা কি এই সব সাধু সন্তদের থেকেও বেশী পন্ডিত? ওকে আর ওর সাঙ্গপাঙ্গদের কেউ এই সব সাধুসন্ন্যাসীদের কাছে পাঠান। আরেকটা কথা, এই গোষ্ঠীদের নিশানায় সবসময় হিন্দু ধর্মই কেন থাকে?? বাকি অন্য ধর্ম বা পন্থ এদের নিশানায় থাকে না কেন?
    ননসেন্স !!

Leave a Reply