You are here
Home > Blog
Share

যুদ্ধ গোলাপ

গোলাপ, একটা গোলাপ।।তাই দিয়ে তো কত কিছুই বলা যায়। প্রেম নিবেদন, বন্ধুত্ব, শান্তি….সৌন্দর্যের মূর্ত প্রতীক হয় এই গোলাপ। রূপ চর্চা থেকে বাগান সজ্জা গোলাপের জুড়ি মেলা ভার। একটা গোলাপ দিয়ে কত কিছু বাজিমাৎ করা যায়…

কোন রানী কোন রাজকুমারী গোলাপের মত….কে যেন গোলাপের জলে স্নান করত…কে যেন গোলাপ বালা ..টাইগ্রিস ইফ্রেটিস নদীর তীরে কি অপূর্ব মনে যেন এই ফুলের সৃষ্টি করেছিল ঈশ্বর। লাল গোলাপ হল তারপর প্রেমের প্রতীক, হলুদ বন্ধুত্বের, সাদা শান্তির..পিচ ফল রঙা (হলদে কমলা) গোলাপ মানুষের মনের সৌন্দর্য ও নমনীয় ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে।

আর সব থেকে দামী গোলাপ কালো গোলাপ….সে গোলাপ এতই গাঢ় লাল যে দেখলে মনে হয় সে কালো। ভালোবাসার মৃত্যু নেই, পারস্পরিক সম্পর্ক ভেঙ্গে গেলেও সম্পর্ক জোড়া দিতে কালো গোলাপ উপহারের জুড়ি নেই। কালচে লাল বা কালচে মেরুন গোলাপকেই ‘কালো গোলাপ’ বলা হয়। কালো গোলাপ মানে হচ্ছে পুনর্জন্ম, অথবা নতুন করে শুরু।

আগুন রঙা গোলাপ আছে। সাদা থেকে উঠে মুখের কাছে কেমন আগুন রং ধরে…
কমলা গোলাপ নিয়ে আসে অহঙ্কার, উচ্ছ্বাস বার্তা! উজ্জ্বল কমলা রঙের গোলাপ প্রিয়জনকে জানিয়ে দেয় প্রেরকের মনের উষ্ণ, উদ্দীপনামূলক ভালোবাসার বার্তা, জানিয়ে দেয় প্রিয়জনকে কাছে পেতে চাওয়ার পরম ব্যাকুলতার কথা!

গোলাপী গোলাপের গ্রহণযোগ্যতা সর্বকালের, সর্বযুগের! আভিজাত্য এবং অন্তরের স্নিগ্ধতা প্রকাশ পেয়ে থাকে গোলাপী গোলাপ উপহারের মাঝে। হালকা গোলাপী রঙের গোলাপ সুখ, রোম্যান্স, আনন্দ প্রকাশের প্রতীক এবং গাঢ় গোলাপী গোলাপ প্রাপকের প্রতি প্রেরকের ভালোবাসার স্বীকৃতি, হৃদয়ের স্নিগ্ধ ভালোবাসার প্রকাশ।

‘প্রথম দর্শনেই প্রেম’ প্রকাশের অন্যতম উপহার হচ্ছে একগুচ্ছ ল্যাভেন্ডার গোলাপ। ল্যাভেন্ডার বা হালকা বেগুনী রঙ একজনের প্রতি আরেকজনের গভীর ভালোবাসা বর্ণনা করে। প্রিয়জনকে ভালোবাসার গভীরতা বুঝাতে ল্যাভেন্ডার গোলাপের জুড়ি নেই।

আরো আছে লতানে গোলাপ…গুল্ম জাতীয় ফুল গাছ টি সারা বাড়ির দেওয়াল জুড়ে ছড়িয়ে থাকে। আর আছে ছোট ছোট চীনা গোলাপ…সারা বছর ছোট ছোট গোলাপ শোভা বর্ধন করে ।এখন তো বিজ্ঞান ও প্রকৃতির মেল বন্ধনে নীল , সবুজ , রামধনু গোলাপও মেলে…

কিন্তু এহেন গোলাপও হয়ে ওঠে যুদ্ধের প্রতীক। সত্য কি আজব এই মানব জাতি…ফুলকেও তারা ছাড়ে না। তার গায়েও লাগায় যুদ্ধে গন্ধ। তাও কেবল সিংহাসন ,অধিকার , রাজত্বের জন্য…!

হ্যা , আমি গোলাপের যুদ্ধের কথা বলছি। অনেকেই কিসব রোজ ডে ,গোলাপ দিবস লিখছে…গোলাপ নিয়ে যুদ্ধের ইতিহাসটাও একটু জেনে নেওয়া যাক…

1455 সাল। মধ্যযুগের ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ড রাজসিংহাসন দখল করবার বাসনায় তৎকালীন ইংল্যান্ডের তিন প্রভাবশালী সামন্ত রাজ্য হাউস অফ প্ল্যান্টাগেনেট, হাউস অফ ল্যাঙ্কেস্টার আর হাউস অফ ইয়র্কের মধ্যে শুরু হলো ক্ষমতা দখলের এক ঘৃণ্য গৃহযুদ্ধ।

বিশ্বইতিহাসের পাতায় এই যুদ্ধই “ব্যাটেল অফ রোজেস বা গোলাপের যুদ্ধ” নামে খ্যাত। 1455 সাল থেকে 87 সাল প্রায় 32 বছর এই যুদ্ধ স্থায়ী হয়।

সবথেকে অদ্ভুত বিষয় ছিল এই যে, এই যুদ্ধের প্রতীক ছিল গোলাপ।যুদ্ধে হাউস অফ ল্যাঙ্কেস্টারের রাজকীয় প্রতীক চিহ্ন ছিল লাল গোলাপ আর হাউস অফ ইয়র্কের প্রতীক ছিল সাদা গোলাপ। হাউস অফ প্ল্যান্টাগেনেট ছিল সাহায্যকারীর ভূমিকায়।

গোলাপের যুদ্ধে বাইরে যেমন রাজপরিবারের পুরুষগুলি ব্যস্ত রাখত…তেমন অভ্যন্তরে ষড়যন্ত্র ,গুপ্ত হত্যা ইত্যাদি ব্যস্ত রাখ রাজপরিবারের মহিলাগুলি কে….তখন ষড়যন্ত্র আর রাজনৈতিক হত্যায় পিছিয়ে ছিল না ইংল্যান্ডের রাজপরিবারের মহিলারাও। নিজেদের স্বামী, পুত্র বা ভ্রাতাকে সিংহাসন পাইয়ে দেবার জন্য তারাও যেকোনো পর্যায় অবধি যেতে পারত।

এলিজাবেথ উডভিল, মার্গারেট বিউফোর্ট আর অ্যানি নেভিল এই তিন রাজনারী এই গোলাপের যুদ্ধের সময় এই সব অভ্যন্তরীন ষড়যন্ত্র , গুপ্ত হত্যা ইত্যাদি কু কার্যের জন্য ইতিহাসে খ্যাত হয়ে আছে(কু)…

দুর্গেশনন্দিনী

তথ্যঃ ব্যাটেল অফ রোজেজ

Top
Translate »